চর্মরোগ এবং তিল সম্পর্কে জানে নিন
বয়ষ্ক ত্বকে বিরূপ পরিবর্তন,,
কখনও কখনও বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে সমস্ত পরিবর্তন বা অসুখ বয়স বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে তার বর্ণনা ক্রমান্বয়ে দেয়া হলো।
প্রুরিটাস সেনাইলিস (Pruritis Senilis): শরীরের চামড়া যেন শুকিয়ে না যায় সেজন্য যে উপাদানটির ভূমিকা বেশি তার নাম সেবাম (ফ্যাট)। এটি সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকে নিঃসরিত গ্রন্থি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকে নিঃসরিত হয়ে থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বকে সেবামের আধিক্য কমে যেতে থাকে। ফলে চামড়া শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যায়। আর এ শুষ্কতার কারণে চুলকানির উদ্রেক হয়।
যা এন্টিহিস্টিমিন বা চুলকানি কমানোর ওষুধ সেবনে খুব একটা উপকার হয় না। করণীয় তা হচ্ছে গোসলের পরপরই (শরীর শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই) শরীরে তেল (অলিভঅয়েল) বা (লিকুইড পেরাফিন বা গ্লিসারিন) মাখা।জেরটিক একজিমা (Xerotic Eczema): ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ফলে চুলকাতে চুলকাতে যে একজিমা হয় তাকেই জেরটিক একজিমা বলে। শীতকালে এ সমস্যাটি হয়ে থাকে বেশি। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, পাশাপাশি বয়স বৃদ্ধির কারণে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়ে যায়।
এ দুটো কারণ মিলিয়ে চুলকাতে চুলকাতে একজিমার আকার ধারণ করে (হাত ও পায়ে বেশি)। এমতাবস্থায় সাবান যত কম ব্যবহার করা যায় ততই মঙ্গল। বার বার গোসল বা অতিরিক্ত সময় ধরে গোসলের কারণেও একজিমার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। গোসলের পরপরই (শরীর শুকিয়ে যাওয়ার আগেই) ময়েশ্চারাইজার বা তেল জাতীয় জিনিস মেখে নিলে উপকারে আসবে। "ঘা"-এর পরিমাণ যদি বেশি হয় বা পেঁকে যায় (ইনফেকশন) তবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।
তিল সম্পর্কে জানুন,
সত্তর বয়সে সবারই কিছু না কিছু লাল তিল থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে লাল তিলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। কোন ক্ষতি করে না বলে এ জাতীয় তিলের কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবে ইলেক্ট্রিক মেশিনে (electrodesication) খুব সহজেই এটি নির্মূল করা যায়। প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।সেনাইল লেনটিজিন (Senile Lentigines): সাধারণভাবে বলতে গেলে এটি এক ধরনের তিল।
তিল সাধারণত বাচ্চা বয়সে বা যে কোন বয়সেই হয়ে থাকে। বার্ধক্যে এ জাতীয় তিল, সূর্যের আলো বেশি লাগে এমন জায়গায় (হাতে এবং কপালে) হয়ে থাকে। আঁকাবাঁকাভাবে গোলাকার কালো বর্ণের হয়ে থাকে। এ জাতীয় দি ক্যান্সারের কোন আশংকা নেই এবং এটির কোন চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই।
টেলানজায়াকটেসিয়া (Telangiectasia): এ ক্ষেত্রে চামড়ার রক্তনালী প্রসারি থাকে এবং তা খালি চোখেই দেখা যায়। অনেক বয়স্ক ব্যক্তির বেলাতেই নাকের দুই পাশে লাল লাল প্রসারিত রক্তনালী দেখা যায়। যে ব্যক্তির বয়স বেশি সে তত বেশি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এসে থাকে। আর এই অতিরিক্ত সূর্যের আলোর কারণে ফর্সা চামড়াতে প্রসারিত রক্তনালীর পরিমাণ বেড়ে যায়। এ বিষয়টি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এবং এটির কোন চিকিৎসা নেই বা প্রয়োজনও নেই।






Comments
Post a Comment