পেটে ব্যথা হলে কী করবেন জেনে রাখুন?
পেটে ব্যথা হলে কী করবেন জেনে রাখুন?
পেটে ব্যথা একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা শিশু থেকে বয়স্ক—সকল বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। এটি সাময়িক হতে পারে অথবা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য ও যত্নের অভাবে এটি বড় ধরনের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই জেনে নিন—পেটে ব্যথা হলে কী করবেন, এর কারণ কী, এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
পেট ব্যথার সাধারণ কারণসমূহ,,
১. গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি:
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে, যার ফলে উপরের পেটের দিকে জ্বালা ও ব্যথা অনুভূত হয়।
২. গ্যাস বা বায়ু জমা হওয়া:
হজমে সমস্যা হলে পেটে গ্যাস জমে ব্যথা হয়, সাধারণত নাভির চারপাশে ব্যথা অনুভূত হয়।
৩. খাদ্যে অ্যালার্জি বা বিষক্রিয়া:
বাসি বা দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া হতে পারে।
৪. ইনফেকশন বা ভাইরাস (যেমন রোটাভাইরাস):
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই কারণে পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে।
৫. মাসিকের সময় পেট ব্যথা (Dysmenorrhea):
মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় নিচের পেটে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত ব্যথা হলে তা চিকিৎসার বিষয়।
৬. অন্ত্রের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেটরি বোয়েল ডিজিজ (IBD):
এই সমস্যায় দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া ও হজমের জটিলতা দেখা যায়।
ঘরোয়া প্রতিকার যা আপনি মেনে চলতে পারেন,
১. আদা চা পান করুন:
আদা প্রাকৃতিকভাবে হজমে সাহায্য করে এবং বমিভাব বা ব্যথা কমায়।
২. গরম পানির থলি ব্যবহার:
নাভির ওপর গরম পানির থলি চেপে ধরলে পেশির শিথিলতা আসে এবং ব্যথা কমে।
৩. পুদিনা পাতা চিবানো বা পুদিনা চা:
পুদিনা পাচনতন্ত্রকে শান্ত করে এবং গ্যাস ও পেট ফোলাভাব দূর করে।
৪. দারুচিনি ও মধু:
দারুচিনি ও মধুর মিশ্রণ অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
৫. পানি পান করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে:
ডায়রিয়া বা বমি থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা হয়—তাই পর্যাপ্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণ করা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
পেট ব্যথা ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে
সঙ্গে জ্বর, বমি, রক্তপাত, বা প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দিলে
গর্ভবতী অবস্থায় পেট ব্যথা হলে
শিশুদের ক্ষেত্রে পেটে ব্যথার পাশাপাশি ডিহাইড্রেশন হলে
ব্যথা খুব তীব্র হলে বা ক্রমাগত বেড়ে গেলে
চিকিৎসা পদ্ধতি ও করণীয়,,
চিকিৎসা নির্ভর করে মূলত ব্যথার কারণের ওপর। একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ব্লাড টেস্ট, বা স্টুল টেস্টের মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
সাধারণত ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে আছে:
গ্যাস্ট্রিকের জন্য: ওমিপ্রাজল, র্যাবিপ্রাজল
ইনফেকশনের জন্য: অ্যান্টিবায়োটিক (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)
গ্যাসের জন্য: সিমেথিকন, ডাইমেথিকন
ব্যথা কমানোর জন্য: স্পাজমোলাইটিক ওষুধ
পেট ভালো রাখার জন্য কীভাবে খাওয়া-দাওয়া করবেন?
হালকা, সহজপাচ্য খাবার খান
খুব গরম বা খুব ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন
রাস্তার খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পানি থেকে বিরত থাকুন
দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন
বেশি ভাজা-পোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন
পেটে ব্যথা একেবারে উপেক্ষা করার মতো কোনো সমস্যা নয়। কারণ ছোট কারণেও বড় রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তাই প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া প্রতিকার ও সতর্কতা মেনে চললেও পরিস্থিতি জটিল মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখুন: সচেতন থাকলে রোগ দূরে থাকবে। পেট ব্যথাকে গুরুত্ব দিন, দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

Comments
Post a Comment